ধর্মশাস্ত্র
৩ নেফী ২৬


অধ্যায় ২৬

যীশু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করেছেন—দুধের শিশুরা এবং ছেলেমেয়েরা এমন বিস্ময়কর জিনিস উচ্চারণ করে যা লেখা যায় না—খ্রীষ্টের মন্ডলীতে যারা আছে তাদের মধ্যে সমস্ত কিছুতে মিল রয়েছে। প্রায় ৩৪ খ্রীষ্টাব্দে।

১ এবং এখন এটা ঘটলো যে যখন যীশু এই সমস্ত কথা বলার পর তিনি জনসমাগমের সামনে সেগুলো ব্যাখ্যা করলেন; এবং তিনি বড় ছোট উভয়ের জন্য তাদের কাছে সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করলেন।

২ এবং তিনি বললেন: এই ধর্মশাস্ত্রগুলো, যা তোমাদের কাছে ছিলো না, তা পিতা আদেশ দিয়েছেন যাতে আমি তোমাদের দিই; কারণ তিনি এটা প্রজ্ঞাবানের কাজ বলে মনে করেন যে এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেওয়া উচিত।

৩ এবং তিনি সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করলেন, আদিকাল থেকে শুরু করে সেই সময় পর্যন্ত যখন তিনি তাঁর মহিমায় ফিরবেন—হ্যাঁ, এমনকি সমস্ত কিছু যা ভূমণ্ডলে ঘটবে, যতক্ষণ না উপাদানসমূহ প্রচণ্ড উত্তাপে গলে যাবে, এবং পৃথিবী একটা লিপি-পত্রের মতো মোড়ানো হবে, এবং আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী বিলীন হয়ে যাবে;

৪ এবং সেই মহৎ ও শেষ কাল পর্যন্ত, যখন সমস্ত জাতি, সমস্ত সম্প্রদায়, সমস্ত রাজ্য ও ভাষার মানুষ ঈশ্বরের সামনে দাঁড়াবে, তাদের কাজের জন্য বিচার পেতে, যে তা ভালো কি মন্দ—

৫ যদি তারা ভালো হয়, তবে অনন্ত জীবনের পুনরুত্থান পাবে; এবং যদি তারা মন্দ হয়, তবে নরকযাতনার পুনরুত্থান পাবে; উভয়ই সমান্তরালে থাকবে, একটা এক পাশে এবং অন্যটা অন্য পাশে, খ্রীষ্টের করুণা, ন্যায়বিচার, এবং পবিত্রতা অনুসারে, যিনি জগতের সৃষ্টি হওয়ার আগেই ছিলেন।

৬ এবং এখন এই গ্রন্থে যীশু সত্যিই লোকদের যা যা শিখিয়েছেন তার শতকরা এক ভাগও লেখা যায়নি;

৭ কিন্তু দেখো, নেফীর ফলকসমূহে তিনি যা যা লোকেদের শিখিয়েছেন তার অধিকাংশ সংরক্ষিত রয়েছে।

৮ এবং আমি এই জিনিসগুলো লিখেছি, যা তিনি লোকেদের শিখিয়েছিলেন তার একটা ক্ষুদ্র অংশ; এবং আমি এগুলো লিখেছি যাতে এগুলো পুনরায় এই জাতির কাছে আসতে পারে, অযিহূদীদের কাছ থেকে, সেই বাক্যানুসারে যা যীশু বলেছেন।

৯ এবং যখন তারা এটা গ্রহণ করবে, যা প্রথমে তাদের পাওয়া প্রয়োজন, তাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা হিসেবে, এবং যদি তারা এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে বৃহত্তর বিষয়গুলো তাদের কাছে প্রকাশ করা হবে।

১০ এবং যদি তারা এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে বৃহত্তর বিষয়গুলো তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হবে, এবং তারা দোষী সাব্যস্ত হবে।

১১ দেখো, আমি প্রায় তা লিখতে যাচ্ছিলাম, যা কিছু নেফীর ফলকসমূহে খোদাই করা ছিলো, কিন্তু প্রভু আমাকে নিষেধ করলেন, বললেন: আমি আমার জনগণের বিশ্বাস পরীক্ষা করবো।

১২ অতএব আমি, মরমন, সেই জিনিসগুলো লিখছি যা প্রভু আমাকে আদেশ দিয়েছেন। এবং এখন আমি, মরমন, আমার কথাগুলো শেষ করছি, এবং যা আদেশ দেওয়া হয়েছে তা লেখা শুরু করছি।

১৩ অতএব, আমি চাই যে তোমরা উপলদ্ধি করো যে প্রভু সত্যিই তিন দিন ধরে, জনগণকে শিক্ষা দিয়েছিলেন; এবং এরপর তিনি বহু বার নিজেকে তাদের সামনে প্রকাশ করেছিলেন, এবং বহু বার রুটি ভেঙ্গেছিলেন, তা আশীর্বাদ করেছিলেন, এবং তাদের দিয়েছিলেন।

১৪ এবং এটা ঘটলো যে তিনি সেই শিশুদের শিক্ষা দিলেন এবং তাদের মাঝে পরিচর্যা কাজ করলেন যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এবং তিনি তাদের জিহ্বা খুলে দিলেন, এবং তারা তাদের পিতাদের কাছে মহান ও বিস্ময়কর বিষয়গুলো বললো, এমনকি তিনি যা জনগণের কাছে প্রকাশ করেছিলেন তার চেয়েও মহান; এবং তিনি তাদের জিহ্বা খুলে দিলেন যাতে তারা বলতে পারে।

১৫ এবং এটা ঘটলো যে তিনি স্বর্গে আরোহণ করার পর—দ্বিতীয়বার তিনি নিজেকে তাদের কাছে প্রকাশ করলেন, এবং পিতার কাছে গেলেন, তাদের সমস্ত অসুস্থদের আরোগ্য করার পর, তাদের খোঁড়াদের সুস্থ করেছিলেন, এবং তাদের অন্ধদের চোখে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছিলেন এবং বধিরদের শ্রবণ শক্তি দিয়েছিলেন, এমনকি তাদের মধ্যে সকল প্রকার নিরাময় করেছিলেন, এবং একজন ব্যক্তিকে মৃত থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন, এবং তাদের কাছে তাঁর ক্ষমতা প্রকাশ করেছিলেন, এবং পিতার কাছে আরোহণ করেছিলেন—

১৬ দেখো, এটা ঘটলো যে পরদিন জনসমাগম একত্রিত হলো, এবং তারা সেই শিশুদের দেখলো ও শুনলো; হ্যাঁ, এমনকি দুধের শিশুরাও তাদের মুখ খুললো এবং বিস্ময়কর বিষয়গুলো বললো; এবং তারা যা বলেছিলো তা কাউকে লিখতে নিষেধ করা হয়েছিলো।

১৭ এবং এটা ঘটলো যে যীশু যেসব শিষ্যদের নির্বাচন করেছিলেন তাঁরা তখন থেকে শিক্ষা দিতে এবং যতজন তাঁদের কাছে আসতো তাদের বাপ্তিস্ম দিতে শুরু করলেন; এবং যারা যীশুর নামে বাপ্তিস্ম নিলো তারা পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হলো।

১৮ এবং তাদের মধ্যে অনেকে এমন বিষয় দেখলো ও শুনলো যা বলা যায় না, যা লেখার অনুমতি নেই।

১৯ এবং তারা শিক্ষা দিলো, এবং একে অপরের পরিচর্যা করলো; এবং তারা সব কিছুতে সমান ছিলো, প্রত্যেকে ন্যায়পরায়ণতার সাথে, একে অপরের সাথে আচরণ করলো।

২০ এবং এটা ঘটলো যে তাঁরা সমস্ত কিছু করলো যেমন যীশু তাদের আদেশ দিয়েছিলেন।

২১ এবং যারা যীশুর নামে বাপ্তিস্ম নিয়েছিলো তাদেরকে খ্রীষ্টের মণ্ডলী বলা হতো।